“সুন্নাতী বিবাহ” ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম!💐 প্রথমে ১০০% সত্য তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। এরপর হোমপেজে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফী প্রদান করুন। এরপর প্রোফাইলে গিয়ে যোগাযোগের জন্য কানেকশন প্যাকেজ ক্রয় করুন। এরপর পাত্র-পাত্রী পরস্পর যোগাযোগ করে অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করে সুন্নাত তরীকায় বিবাহ সম্পন্ন করুন। এরপর নির্ধারিত সাকসেস ফী প্রদান করুন। পাত্রপাত্রীর সন্ধান দিয়ে ইনকাম করুন💸

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে অসাধারণ একটি গল্প

(পুরুষের একাধিক বিবাহ নারীদের কল্যানের জন্যই)

“কেন? আমি কি খারাপ? আমি কি যথেষ্ট ভালো নই?? আনি দেখতে জি সুন্দরী নই???

না, না, না! আমি কখনোই তোমার দ্বিতীয় একজন স্ত্রীকে মেনে নিতে পারি না। সতীনকে সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার সবকিছু আমি দান করে দিতে পারি, কিন্তু স্বামীর ভাগ অন্য বেডীরে দেওয়া- ইম্পসিবল!! যদি তুমি আরেক জন মহিলাকে বিয়ে করতে চাও, তো করো; কিন্তু মনে রেখো ফিরে এসে তুমি আমাকে আর এখানে দেখতে পাবে না।”

আমি ফাতিমা। এইতো ক’ বছর আগে ঠিক এ কথাগুলোই আমি বলেছিলাম, যখন আমার স্বামীর মুখে শুনলাম যে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে আগ্রহী।

যাকে বিয়ে করতে চাচ্ছিলেন তার নাম জয়নাব। তিনি ছিলেন সদ্য তালাকপ্রাপ্ত ৪ সন্তানের মা। খুব দুঃখ কষ্টে নাকি দিন কাটছিলো উনাদের। আমার স্বামী বললো, তাদের অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে দুপুর হলে তার বাচ্চাদের জন্য কোথা থেকে খাবার আসবে সেটাও নাকি তার জানা নেই।

আমি বললাম, কেন? ওদের বাবা কোথায়? সে কি নিজের বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে পারছে না? তুমি একজন বাইরের মানুষ হয়ে কেন অন্য এক লোকের বোঝা টেনে বেড়াতে যাবে? নিশ্চয়ই উনাকে সাহায্য করার আরও অনেক উপায় আছে। তুমি চাইলে তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারো, বিয়ে করার কী প্রয়োজন!

বহুবিবাহ মেনে নেওয়ার ব্যাপারটা আমি কল্পনাও করতে পারছিলাম না! আমার স্বামীকে আরেকজন নারীর সাথে ভাগাভাগি করতে হবে। তার ভালোবাসা, হাসি, রসিকতা এগুলো আমি ছাড়াও আরেকজন নারী উপভোগ করবে? সে আমাকে ছাড়াও আরেকজন নারীকে স্পর্শ করবে, আর তাকে ভালোবাসার কথা শোনাবে! অসম্ভব। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

চরম ক্ষোভ, দুঃখ, আর অপমানের জ্বালায় আমি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। আমি ওর জন্যে কী না হইনি? একজন স্ত্রী, প্রেমিকা, মা, ডাক্তার, গৃহিণী। আমি ওর তিনটা বাচ্চার মা! কীভাবে পারলো ও আমাকে এতোটা অপমান করতে, আমার হৃদয় ভেঙে চৌচির করে দিতে?

মনে হচ্ছিলো আমি হয়তো বেশি ভালো না বা বেশি সুন্দরী না কিংবা অল্পবয়সী না। কিংবা শুধু আমি যেন ওর জন্য যথেষ্ট ই না! এজন্যই দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলছে….।

নাহ্!
আমি ওর দ্বিতীয় বিবাহ কিছুতেই মেনে নিতে পারলাম না। তখনই ওকে আমার সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলাম। বজ্র কণ্ঠে বলে উঠলাম, যদি কোনো দ্বিতীয় স্ত্রী এই বাড়িতে ঢোকে তাহলে আমি সাথে সাথে এই বাঢি থেকে বেরিয়ে যাব। যদি তুমি
অন্য এক নারীর জন্য আমাদের বিয়ে, সন্তান আর জীবনকে ঝুঁকির সম্মুখীন করতে চাও তো করো। কিন্তু আমি এ বাড়িতে বসে এসব সতীন টতীন একদমই সহ্য করবো না।

আমার স্বামী আমার তীব্র বিরোধিতার কারনে অবশ্য দ্বিতীয় বিয়ে করেন নি। আমার অতো শত হুমকি ধমকী আর ওকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলার পরে বহুবিবাহের কথা আর সে মুখেও আনেনি কখনো। যার কারণে আমিও খুব খুশি। নিজের স্বামীকে ধরে রাখতে পেরেছি সেই আনন্দে আমি আত্মহারা!

আমি জানিনা সেই মহিলা ও তার বাচ্চাগুলোর শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিলো। বোধহয় ওরা সবাই অন্য কোনো এক শহরে চলে যায়।

মনে হচ্ছে যেন কতোকাল আগের কথা বলছি! এমন এক সময়ের কথা যখন আমি ভেবেছিলাম এ জীবনটা অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে, যেন কোনোদিনও শেষ হবে না..। যেন কখনও কিচ্ছু বদলে যাবে না, বদলাতে পারে না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সবকিছুই বদলে গেলো।

ওর জীবনের শেষ কথাগুলো ছিলো – ওর খুব মাথা ধরেছে, ইশার নামাযের আগ পর্যন্ত নাকি শুয়ে থাকবে। হায়! ওর আর সে রাতে ইশার নামায আদায় করা হয় নি। কারণ ওর সে ঘুম আর ভাঙেনি। সে রাতেই উনি মারা যান। – (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)

ওর আচমকা মৃত্যুতে আমি পুরো হতবিহ্বল হয়ে পরি! আমার মাথার উপর যেন আসমান ভেঙ্গে পড়লো। যে মানুষটার সাথে আমি আমার সারাটা জীবন কাটিয়েছি, যাকে কোন অবস্থাতেই আমার থেকে আলাদা হতে দেই নাই সে এক মুহূর্তের মাঝে আমার থেকে চিরদিনের জন্য পৃথক হয়ে গেল!!! তা ভাবতেই চোখের পানিতে আমার বুক ভিজে যাচ্ছিল। এরপর কতোকাল ধরে যে ওর জন্য কেঁদেছি তা কেউ জানেনা.. হয়তো বা এক মহাকাল জুড়ে …।

সে সময় কোনো কিছু দেখাশোনা করে রাখার মতো অবস্থা আমার ছিল না। অযত্নে অবহেলাতে একে একে সব হারাতে শুরু করলাম। প্রথমে আমাদের গাড়ি, এরপর দোকান, এরপর বাড়ি।

শেষমেষ আমার তিন সন্তান আর আমি – আমরা সবাই আমার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। হঠাৎ এতোগুলো মানুষের উপস্থিতিতে ওদের বাড়িটা গিজগিজ করতো। আমার ভাবীও দিনে দিনে অতীষ্ট হয়ে উঠছিলেন। খুব ইচ্ছে হতো ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই আর নিজে উপার্জন করে নিজের ও সন্তানদের খরচ নিজেই চালাই।

সে সময় আমার দরকার ছিল একটি চাকরি। কিন্তু আমার কোনো দক্ষতা ছিল না। বয়সও হয়ে গিয়েছে। কিছু শিখে চাকরি করতে পারার মতো বয়স ছিল না। কিন্তু মানুষের দয়ায় এভাবে কতোদিন মাথা গুঁজে পড়ে থাকা যায়? নিজেদের জন্য একটি আলাদা বাসার প্রয়োজন খুব বেশি করে অনুভব করছিলাম। প্রয়োজন অনুভব করলাম একটা স্বামী সংসারের।

যখন আমার স্বামী বেঁচে ছিলেন, আমরা কতো আরাম আয়েশে ও সুখে শান্তিতে ছিলাম! ঘরের বাইরে যেয়ে কাজ করার প্রয়োজনই ছিল না। তাই নিজেকে কোনো বিষয়ে পারদর্শী করে তোলাও জরুরি মনে হয় নি। কিন্তু দুনিয়া ছেড়ে উনি চলে যাওয়ার পরে জীবন এতো কঠিন হয়ে গিয়েছিলো যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়! আমি প্রতিটা দিন উনার অভাব বোধ করতাম, হৃদয়ের প্রতিটা অংশ দিয়ে উনাকে খুঁজে ফিরতাম। আর ভাবতাম, কী করে মানুষের জীবন এতো ভয়ানকভাবে পাল্টে যায়?!!

এভাবেই দিন কাটছিলো। হঠাৎ একদিন আমার ভাই আমাকে ডেকে তার পরিচিত এক ভাইয়ের কথা বললেন। সেই ভাই নাকি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। ভালো মানুষ, চমৎকার আচার ব্যবহার, আর অনেক দ্বীনদার। আমার জন্যে নাকি খুব মানাবে! কিন্তু উনি চান আমি উনার দ্বিতীয় স্ত্রী হই। আমার জীবনে দ্বিতীয় বারের মতো দ্বিতীয় স্ত্রী কথাটি শুনলাম, কিন্তু এবারে পরিস্থিতি কতো ভিন্ন!

উনি আমাকে দেখতে একদিন আমার ভাইয়ের বাসায় এলেন। ক্ষণিকের মাঝেই যেন আমাদের মধ্যে কী একটা হয়ে গেলো! অবিশ্বাস্য ভাবে আমার উনাকে খুব পছন্দ হয়ে গেলো, উনার প্রতিটা ব্যাপারই খুব ভালো লাগছিল।

উনি আমাকে বললেন, তার প্রথম স্ত্রী জানেন যে তিনি দ্বিতীয় বিয়েতে আগ্রহী, আর স্পষ্টতই সে এর বিপক্ষে। তিনি এটাও বললেন যে, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে একজনকে খুঁজে পেয়েছেন জানলে উনার স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে সেটা তার জানা নেই। তবে উনার স্ত্রীর বহুবিবাহ মেনে নেওয়ার ওপরই এখন উনার চূড়ান্ত জবাব নির্ভর করছে।

সে রাতে আমি ইস্তিখারা নামায আদায় করলাম। আমি পাগলের মতো চাইছিলাম যেন বিয়েটা ঠিকঠাক হয়ে যায়!

হঠাৎ আমার মনে পড়লো, অনেক বছর আগে আরেকজন নারীর জীবনও ঠিক এরকম করেই আমার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিলো। মনে পড়ে গেলো, আমি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। হঠাৎ করে অনুতাপে পুড়ে যাওয়ার মতো একটা উপলব্ধি হলো।

আমার মনে হচ্ছিল, আমি আমার জীবনে আরেকজন অসহায় নারীকে স্থান দেইনি। তাহলে আল্লাহ কেন আমাকে আরেকজন নারীর জীবনে স্থান নেওয়ার সুযোগ দেবেন? নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা আমাকে শাস্তি দেবেন। আমি ক্ষমা চাইতে থাকলাম।

অবাক লাগছিলো! জীবনে একবারও আমার মনে হলো না য, আমি যে কাজটি করছি তা কতোটা ভুল ছিল? আমি সবসময় ভেবে এসেছি যে, এমন করাটাই সঠিক কাজ ছিল। আমি আমার সম্পদকে, আমার জিনিসকে আগলে রাখছি – এতে সমস্যা কোথায়?

কিন্তু এখন যখন আমার অবস্থান পাল্টে গেছে, প্রয়োজনটা যখন এবার আমার, তখন আমি বুঝতে পারলাম কতোটা ভুলের জগতেই না আমি বাস করতে ছিলাম! আমি আরেকজন নারীর স্বামী পাবার অধিকারকে অস্বীকার করছিলাম।

আমি এও বুঝলাম যে, আল্লাহ তায়ালা পুরুষের একাধিক বিবাহকে হালাল করেছেন নারীদের কল্যানের জন্যই। অথচ আমরা নারী জাতি এই বাস্তবতাকে বুঝতে চেষ্টা করি না। শত ধিক্কার আমাদের এই নির্বোধ নারী সমাজের উপর।

যাইহোক আমি দু’আ করতে থাকলাম যেন উনার স্ত্রী আমাকে মেনে নেন..।

কয়েকদিন পর উনি আমাকে ফোন করলেন। বললেন, উনার স্ত্রীর এটা মেনে নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে, তবুও তিনি আমার সাথে দেখা করতে আগ্রহী।

তার স্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলাম। খুব চিন্তা হচ্ছিলো। সেদিন আল্লাহর কাছে অনেক দু’আ করলাম আর বললাম – হে আল্লাহ, আমাকে সাহায্য করো! ঐ আপুর মনকে নরম করে দাও। আমি যেভাবে একজন অসহায় নারীকে আমার দরজা থেকে দুর দুর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম আজ সে যেন অনুরূপভাবে আমাকে তার দরজা থেকে দুর দুর করে তাড়িয়ে না দেয়। সে যেন তার সতীন হিসেবে আমাকে মন থেকে মেনে নেয়।

আমি নিকাব পড়া ছিলাম। ঐ লোকটি অন্য রুমে চলে গেলে আমি চেহারা খুলে তার স্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় থাকি। কিছুক্ষণ পারে তার স্ত্রী আসে।
যখন আমরা দুজন পরস্পর মুখোমুখি হলাম তখন যেমন আমি তাকে দেখে ভিশন আশ্চর্য হলাম ঠিক তেমনি সেও আমাকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। এতো সেই জয়নাব। যাকে আমি আমার সতীন হিসেবে গ্রহন না করে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলাম না। আমার দুচোখ বেয়ে তপ্ত অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগলো। আমি তাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাদতে থাকলাম। বললাম, বোন! আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি স্বার্থপরতার বশে আপনার উপর যুলুম করেছিলাম।

যয়নাবের দুচোখ থেকেও বেরিয়ে এলো দুফোটা অশ্রু। সে ফাতিমাকে সান্তনা দিয়ে বললো, বোন! স্বার্থপরতা ও হিংসার কারনে সতীনকে মেনে না নিতে পারাটা শুধু তোমার আমার সমস্যা নয়। পুরো বাংলাদেশের মেয়েদের মাঝেই এই সমস্যাটা রয়েছে। আমরা সকল মেয়েরাই এই ভুলের সাগরে হাবুডু খাচ্ছি।

আসলে ইসলাম কল্যানের ধর্ম, মানবতার ধর্ম। নারী জাতির কল্যানের জন্যই আল্লাহ তায়ালা সূরা নিসার তিন নাম্বার আয়াতে পুরুষদেরকে একাধিক বিবাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুরুষেরা একাধিক বিবাহ করলে কুমারী, অকুমারী কোন নারীই বিবাহহীনভাবে স্বামী ছাড়া নিসঙ্গ জীবন যাপন করা লাগবে না। এটা যেমন আমি আমার বাস্তব জীবন থেকে বুঝেছি। তেমনি বুঝেছো তুমি। বাংলাদেশের সকল মেয়েদেরই ভুক্তভোগী হওয়ার আগেই এই চিরন্তন বাস্তবতাকে বুঝে নিজ স্বামীকে একাধিক বিবাহ করানো উচিত।

আমি এতক্ষণ চাতক পাখির মত তার মুকের দিকে তাকিয়ে মনোযোগ দিয়ে তার মুল্যবান কথাগুলো শুনছিলাম। তার কথাগুলো সত্যিই স্বর্নের অক্ষর দিয়ে লিখে রাখার মতই ছিলো।

সে আরো কিছু কথা বলার পর বললো, তুমি তেমার ভুল বুঝতে পারার কারনে আমি আন্তরিকভাবে খুশি হয়েছি। তোমাকে সতীন হিসেবে মেনে নিতে আমার কোন আপত্তি নেই। আমার অন্তরে যত স্বর্থপরতা ও হিংসা ছিলো তা অনেক আগেই ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে ফেলেছি। আলাহর কাছে দোয়া করি, যেন সারা জীবন আমরা দুই সতীন বান্ধবীর মত থাকতে পারি। তার কথা শুনে মনে মনে শুকরিয়া আদায় করতে থাকলাম।

উনার কথায় আমার হৃদয় মোহিত হয়ে গেলো! আমার এই কঠিন সময়ে শুধু এটুকুই লাগতো- একটি সখ্যতার হাত যে আমাকে বুকে টেনে নেবে, আমাকে আশা দেবে, বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা ফিরিয়ে আনবে। এই মহিয়সী বোনের জন্য সেটুকু পেলাম।

তার স্বামী পাশের রুম থেকে আমাদের কথপোকথন সব শুছিলো। কিছুক্ষণ পারে সে আমাদের রুমে প্রবেশ করলো। পরে বিয়ের দিন তারিখ নির্ধারিত হলো।

অতঃপর নির্ধারিত তারিখে আমাদের বিবাহ হলো। আমার প্রানপ্রিয় সতীন ওরফে বান্ধবী আমার বাসরঘর সাজিয়ে দিলো। আমি আমার আগের ঘরের সন্তানদের নিয়ে একই ফ্লাটে থাকতে থাকি। তার সন্তানদেরকেও আমি আমার নিজের সন্তানের মত দেখি। সেও আমার সন্তানদেরকে নিজের সন্তাদের মতই আদর করে। আর আমাদের সম্মানিত স্বামী উভয় সতীনের হকই সমানভাবে আদায় করে। এভাবেই চলতে থাকে আনাদের দুই সতীন ওরফে বান্ধবীর সুখের সংসার।

আমরা দুই সতীনই এই বেপারে একমত যে, আমাদের প্রিয় স্বামী যদি আরো দুই বিয়ে করতে চায় তাহলে তাতে তাকে বাঁধা দেবো না। কেননা বাঁধা দেওয়ার কোন অধিকার আমাদের নেই। যেখানে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং পুরুষদেরকে চার বিয়ে করার আদেশ দিয়েছে সেখানে আমরা বাধা দেওয়ার কে??

বরং আমরা তার চার বিয়ের বেপারে আরো সহযোগিতা করবো। ইংশা আল্লাহ

এই মহিয়সী মহিলাটি আমার জীবনে এমন একজন নারীর দৃষ্টান্ত, যেমন নারী আমি নিজে কখনো হতে পারিনি। আমি উনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp