“সুন্নাতী বিবাহ” ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম!💐 প্রথমে ১০০% সত্য তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। এরপর হোমপেজে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফী প্রদান করুন। এরপর প্রোফাইলে গিয়ে যোগাযোগের জন্য কানেকশন প্যাকেজ ক্রয় করুন। এরপর পাত্র-পাত্রী পরস্পর যোগাযোগ করে অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করে সুন্নাত তরীকায় বিবাহ সম্পন্ন করুন। এরপর নির্ধারিত সাকসেস ফী প্রদান করুন। পাত্রপাত্রীর সন্ধান দিয়ে ইনকাম করুন💸

সতীনের সাথে আচরণ

❓প্রশ্ন: সতীনের সাথে কেমন আচরণ করতে হবে?

✍️উত্তর:….بسم الله الرحمن الرحيم…..

নিজ স্বামীর বিবাহিত স্ত্রীদেরকে সতীন বলে। শশুর – শিশুরী, দেবর-ননোদের মত সতীণও নিকট আত্মীয়ের অন্তর্ভূক্ত। অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের সাথে যেভাবে ভালো ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা জরুরী ঠিক তেমনি সতীন ও তাদের সন্তানদের সাথে ভালো, মার্জিত, সৌহার্দ্যপূর্ন আচরণ করা উচিত। সতীনকে শত্রু না ভেবে বান্ধবী ভাবা উচিত।

সতীনের সাথে ভালো ব্যবহার করলে আপনারই লাভ। কেননা যখন আপনি তার সাথে ভালো ব্যবহার করবেন তখন সেও অবশ্যই আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করতে বাধ্য হবে। সতীনের সাথে সংসার করেও তখন জান্নাতী সুখ পাবেন। সর্বোপরি পাবেন আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি।

এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে আছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রিজিক (জীবিকা) প্রশস্ত হওয়ার এবং আয়ু বৃদ্ধির প্রত্যাশা করে সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ন রাখে।’ -(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৬)

অন্য হাদীসে এসেছে, হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, রেহেম (আত্মীয়তার বন্ধন) আল্লাহর আরশের সাথে ঝুলন্ত রয়েছে। সে বলে, যে ব্যক্তি আমার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক রাখবেন। আর যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। -(বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৫৯৭১)

এক আত্মীয়ের যেমন অপর আত্মীয়ের উপর অধিকার রয়েছে ঠিক তেমনি এক সতীনেরও অপর সতীনদের উপর অধিকার রয়েছে। আর এই অধিকার আদায়ের নির্দেশ দিয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর নিকটাত্মীয়ের অধিকার রক্ষা করো।’
-(সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৬)

এক সতীনের প্রতি অপর সতীনের অনেক অধিকার রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধিকারের কথা নিম্নে তুলে ধরা হলো –

(১) যোগাযাগ রক্ষা করা :
সতীনগন পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে। এমনকি কেউ বিচ্ছিন্ন থাকলেও তার সঙ্গে অন্য সতীনরা যোগাযোগ রক্ষা করবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘… প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী সেই যে ব্যক্তি তার আত্মীয় তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে তা রক্ষা করে চলে।’
-(বুখারী শরীফ, হাদীস : ৫৯৯১)

২. ভালো আচরণ করা : সতীনের সাথে শত্রুর মতো আচরন না করে বান্ধবীর মতো আচরন করুন। তার সুখ-দুঃখের খোঁজ খবর রাখুন। বিপদ আপদে তার পাশে থাকুন।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মা-বাবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করো, আর উত্তম আচরণ করো নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)

৩. অভাবগ্রস্ত হলে সহযোগিতা করা : সতীন কোন অভাব অনট বা দুঃখ কষ্টে কড়লে সাধ্যমত তার সহায়তা করুন। কেননা এ অবস্থায় তাকে সহায়তা করলে দ্বিগুন সাওয়াব পাবেন।

এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মিসকিনকে দান করলে শুধু দানের সওয়াব আর (অসহায়) আত্মীয়কে সহযোগিতা করলে দুটি সওয়াব—দান ও আত্মীয়তা রক্ষা।’ -(সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৫৮২)

৪. মেহমানদারি করা : মেহমানদারি সাধারণ মুসলমানের অধিকার। আত্মীয় হলে তা আরো দৃঢ় হয়। তাই যথাসাধ্য সতীনকে মেহমানদারি করতে হবে।

এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে সে যেন মেহমানকে সম্মান করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৩৮)

৫. অসুস্থ হলে সেবা করা : সতীন অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া, খোঁজখবর নেওয়া ও সেবা শুশ্রূষা করা আবশ্যক।

কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে আহার করাও, রোগীর শুশ্রূষা করো এবং বন্দিদের মুক্ত করো।’
-(বুখারী শরীফ, হাদীস : ৫৩৭৩)

৬. সতীনের সন্তানকে লালন পালন করা: সতীনের সন্তানকে নিজের সন্তানের দৃষ্টিতে দেখতে হবে। তাদের সাথে কোন অবস্থাতেই হিংসা করা যাবে না। এমনকি নিজে না খেয়েও সতীনের ইয়াতীম সন্তানদেরকে খাওয়াতে হবে। এটাই মহত্ব। এটাই ইসলামের শিক্ষা।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا – إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللهِ لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا
– ‘আহার্যের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও তারা অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে এবং (বলে) আমরা তোমাদেরকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনে খাদ্য দান করি। এর বিনিময়ে তোমাদের থেকে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা চাইনা’ (দাহর ৭৬/৮-৯)।

সতীনের সন্তানদের সাথে দুর্ব্যাবহার করা যাবে না। তাদের উপর কোনোরূপ যুলূম – অত্যাচার করা যাবে না। বরং তাদেরকে আদর, যত্ন, স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা দিতে হবে।

এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا.

– ‘তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর ও তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক কর না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সংগী-সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের প্রতি সদাচরণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক, অহংকারীকে পসন্দ করেন না’ (নিসা ৪/৩৬)।

সতীন মারা গেলে বা তার অনুপস্থিতিতে তার সন্তানদেরকে নিজের সন্তানের মত করে লালন পালন করতে হবে। এটা তাদের প্রতি আপনার দয়া নয়। বরং সৎ মা হিসেবে এটা আপনার অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। যা পালন না করলে অবশ্যই আপনাকে আল্লাহ তায়ালার দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। তাছাড়া এতিমকে লালন পালন করার করনে তো আপনি অবশ্যই বাড়তি সাওয়াব পাবেন। এতে আপনার জান্নাতে যাওয়ার পথও সুগম হবে।

এ সম্পর্কে হাদীসে আছে,
আমর বিন মালেক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন,

مَنْ ضَمَّ يَتِيمًا بَيْنَ أَبَوَيْنِ مُسْلِمَيْنِ إِلَى طَعَامِهِ وَشَرَابِهِ حَتَّى يَسْتَغْنِيَ عَنْهُ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ الْبَتَّةَ.
– ‘যে ব্যক্তি মাতা পিতা মারা যাওয়া কোন মুসলিম ইয়াতীমকে স্বাবলম্বী হওয়া পর্যন্ত নিজ পানাহারে শামিল করে, ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়’।
-(আহমাদ হা/১৯০২৫; ছহীহ তারগীব হা/২৫৪৩)

অন্য হাদীসে আছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ :قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَافِلُ الْيَتِيمِ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ وَأَشَارَ مَالِكٌ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى.

আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি ও ইয়াতীম প্রতিপালনকারীর অবস্থান জান্নাতে এই দুই আঙ্গুলের ন্যায় পাশাপাশি হবে। চাই সে ইয়াতীম তার নিজের হোক অথবা অন্যের। (বর্ণনাকারী) মালেক বিন আনাস (রাঃ) তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করলেন’।
-(মুসলিম হা/২৯৮৩ ‘যুহুদ’ অধ্যায়; বুখারী, হা/৫৩০৪; মিশকাত হা/৪৯৫২; সিলসিলা ছহীহা হা/৮০০)

৭. দ্বিনের ব্যাপারে সতর্ক করা : সতীনেরা পরস্পরের জাগতিক কল্যাণ কামনার মতো পরকালীন কল্যাণের ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক করবেন।

কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা নিজেদেরকে এবং পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো জাহান্নামের আগুন থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’
-(সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)

আজ দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশের মেয়েরা সতীনকে বান্ধবী নয়। বরং সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করে। সতীনদের পরস্পরের মাঝে বান্ধবীর মতো বন্ধুত্ব নেই। আছে সাপ আর বেজির মত সত্রুতা।

সতীনদের পরস্পরের মাঝে এই শত্রুতার প্রধান কারণ হলো ২ টি –

(১) স্বার্থপরতা:
বাংলাদেশের অধিকাংশ মেয়েরা হল বিশ্ব বিখ্যাত স্বার্থপর। এরা হল রাক্ষস মার্কা খাই খাই পার্টি। তাই তো এরা স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে চায় না। স্বামীর জীবন, যৌবন, উপার্জন সব একাই খাইবে। আর এখান থেকেই সতীন সতীনের শত্রুতার শূত্রপাত হয়। শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য গৃহযুদ্ধ।

আজোব তো, আপনারা অন্যকে স্বামীর ভাগ দেওয়ারই কে আর না দেওয়ারই কে?? যেখানে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই এই অধিকার দিয়েছেন যে, স্বামী তার নিজের যৌবন ও উপার্জনকে ৪ ভাগ করে ৪ স্ত্রীর মাঝে বন্টন করে দিবে।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
‘তোমরা বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমার ভালো লাগে—দুই, তিন অথবা চার।
-(সূরা নিসা: ৩)

সুতরাং আপনার স্বী যদি ৪ টি পর্যন্ত বিবাহ করতে চায় তাহলে আপনার ভাগে কম পড়ে যাবে ভেবে আপনার স্বামীকে উক্ত বিবাহ থেকে বাধা প্রদান করার কোন অধিকার আপনার নেই।

আরে! আপনার সতীন আপনার রিযিক খাবে না। বরং আল্লাহ তাকে যেই রিযিক নির্ধারিত করে দিয়েছেন তা নিয়েই সে আপনার স্বামীর সংসারে আসবে। তবে এতো টেনশন কেন?

তাছাড়া “ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ” – এটাই ইসলামের শিক্ষা। স্বার্থপরতাকে ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না।

তাই তো কবি বলেন,

সতীনের সুখে হাসবো আমি
কাঁদবো সতীনের দুঃখে ,
স্বামীর ভাগ সতীনকে দিয়ে
থাকবো আমি সুখে।

(২) হিংসা:
বাঙালি মেয়েদের একটি কু খাসলাত হলো – সতীনের সাথে হিংসা করা। মেয়েরা সতীনের ভালো একেবারেই সহ্য করতে পারে না। স্বামী যদি সতীনকে কিছু দেয় তবেই সে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে।

সতীনের প্রতি মেয়েদের এই হিংসা প্রবণতা এক প্রকার ব্যাধি; যা ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক পাপের কাজ, অবশ্যই বর্জনীয় এবং সম্পূর্ণরূপে হারাম।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে সুরা ফালাকের ৫নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর (আমি আশ্রয় চাই) হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।’

এ সম্পর্কে হাদীসে আছে,
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে সেভাবে খেয়ে ফেলে যেভাবে আগুন কাঠকে জ্বালিয়ে নিঃশেষ করে দেয়’।
– (সুনানে আবু দাউদ : ৪৯০৫)

অন্য হাদীসে আছে,
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সন্দেহ নেই, হিংসা নেক আমলগুলোর নুর ও আলোকে নিভিয়ে দেয়’।
– (সুনানে আবু দাউদ : ৪৯০৬)

অন্য হাদীসে আছে,
হজরত যামরাহ্ বিন ছালাবাহ (রা.) বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ তারা পরস্পরে হিংসা না করবে’।
– (তাবারানি: ৮১৫৭, ছহিহাহ: ৩৩৮৬)

আরেক হাদীসে আছে,
হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) হতে বর্ণিত নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ করো না, হিংসা করো না, ষড়যন্ত্র করো না ও সম্পর্ক ছিন্ন করো না। বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও, পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও’।
– (বুখারি : ৬০৭৬, মুসলিম: ২৫৫৯, জামে তিরমিজি: ১৯৩৫)

এ ছাড়াও হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে আরো একটি হাদিসে বর্ণিত রাসুল (স.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দার হৃদয়ে ঈমান ও হিংসা একত্রে থাকতে পারে না’।
– (সুনানে নাসাই: ৩১০৯)

হিংসুক বান্দাহদের আল্লাহতায়ালা ক্ষমা করবেন না। আর ইহকাল ও পরকালে তাদের পরিণতি ভয়াবহ। তাইতো নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘অর্ধ শাবানের রাতে (অর্থাৎ শবেবরাতে) আল্লাহতায়ালা তার সব সৃষ্টিকেই ক্ষমা করে দেন। তবে তিনি মুশরিক ও হিংসা-বিদ্বেষপোষণকারীকে ক্ষমা করেন না’।
– (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৯০)।

আসুন, আমরা স্বার্থপরতা ও হিংসার বশবতি হয়ে পুরুষের ৪ বিবাহের বিরোধিতা থেকে বিরত থাকি এবং নিজ স্বামীকে একাধিক বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করি।

আর স্বামী একাধিক বিবাহ করলে নিজ সতীনের সাথে শত্রুতা না করে বান্ধবীর মতো মিষ্টি মধুর আচরন করুন। দেখবেন সেই সতীনও আপনার হিতাকাংখি হয়ে গেছে। তখন সতীনকে নিয়ে একসাথে থাকার পরেও আপনাদের সংসার জান্নাতের টুকরায় পরিনত হয়ে গেছে।

.….فقط. والله اعلم بالصواب …….

 

🖍️উত্তর লিখনে-

মুফতী রিয়াজুল ইসলাম হানাফী

মাদারীপুরী

 

(👉🏿শরয়ী মাসয়ালার সামাধান জানতে যোগাযোগ করুন –

📱+8801990270150 (Whatsapp)

📧 contact.hanafifatawa@gmail.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp