“সুন্নাতী বিবাহ” ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম!💐 প্রথমে ১০০% সত্য তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। এরপর হোমপেজে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফী প্রদান করুন। এরপর প্রোফাইলে গিয়ে যোগাযোগের জন্য কানেকশন প্যাকেজ ক্রয় করুন। এরপর পাত্র-পাত্রী পরস্পর যোগাযোগ করে অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করে সুন্নাত তরীকায় বিবাহ সম্পন্ন করুন। এরপর নির্ধারিত সাকসেস ফী প্রদান করুন। পাত্রপাত্রীর সন্ধান দিয়ে ইনকাম করুন💸

পাত্রপাত্রী পরস্পর দেখার সময় পাত্রীকেই বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। পাত্রকে কেন নয়?

 

বিবাহ জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। অথচ আমাদের সমাজে অনেক সময় পাত্র-পাত্রীর সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে একটি অসমতা দেখা যায়—পাত্রীকে একের পর এক প্রশ্ন করা হয়, কিন্তু পাত্রকে তেমন প্রশ্ন করা হয় না।

পাত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয়—
“পড়াশোনা কতদূর?”
“চাকরি করবেন?”
“রান্না পারেন?”
“সংসার কীভাবে চালাবেন?”
“কী কী করতে পারেন?”
“কুরআন পড়তে পারো?”
একটু কুরআন তিলাওয়াত করে শুনাও—📖

কিন্তু পাত্রের ক্ষেত্রে অনেক সময় মৌলিক বিষয়গুলোই যাচাই করা হয় না। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ একতরফা পরীক্ষা নয়; উভয় পক্ষেরই পরস্পরকে জানার ও যাচাই করার অধিকার রয়েছে।

নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

১. বিবাহের সিদ্ধান্ত উভয়ের জীবনকে প্রভাবিত করে:

বিবাহ শুধু একজন পুরুষের জন্য নয়, শুধু একজন নারীর জন্যও নয়। এটি দুজন মানুষের দীর্ঘমেয়াদি জীবনসঙ্গী নির্বাচন।

তাই পাত্রী যেমন পাত্রের দ্বীনদারি, চরিত্র, উপার্জন, দায়িত্ববোধ, পারিবারিক আচরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন, পাত্রেরও উচিত পাত্রীর দ্বীন, চরিত্র, পারিবারিক মূল্যবোধ, প্রত্যাশা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় জানা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রা)-কে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার সময় সম্ভাব্য পাত্রীকে দেখে নিতে বলেছিলেন:

> «انْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا»
“তাকে দেখে নাও; এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সামঞ্জস্য সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”
—(জামে‘ আত-তিরমিযী: ১০৮৭; সুনান ইবনু মাজাহ: ১৮৬৫)

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, রাসূল ﷺ পাত্রকে জীবনসঙ্গী সম্পর্কে যাচাই করার সুযোগ দিয়েছেন। অতএব বিবাহের আগে পাত্রপাত্রী পরস্পরের তথ্য জানা ও উপযুক্ত প্রশ্ন করা শরিয়তের উদ্দেশ্যের বিরোধী নয়।

২. শুধু পাত্রের অধিকার আছে—এ ধারণা সঠিক নয়:

ইসলামে নারীকে বিবাহের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় বস্তু হিসেবে দেখা হয়নি। বিনাহের ক্ষেত্রে তার সম্মতিও অপরিহার্য।

রাসূল ﷺ বলেছেন:
«الثَّيِّبُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا، وَالْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ»

অর্থ, পূর্বে বিবাহিত নারী নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবকের চেয়ে বেশি অধিকার রাখে; আর কুমারীর কাছ থেকেও অনুমতি নিতে হবে।
—(সহীহ মুসলিম: ১৪২১)

অর্থাৎ, পাত্রকে যেমন পাত্রীকে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, ঠিক তেমনি পাত্রীকেও পাত্রকে দেখে শুনে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

সুতরাং পাত্রপাত্রী পরস্পর দেখার মজলিসে পাত্রীকে যেমন প্রশ্ন করা হয় ও কুরআন তিলাওয়াত করতে বলা হয় তেমনি পাত্রকেও প্রশ্ন করতে হবে ও কুরআন তিলাওয়াত করতে বলতে হবে। যাতে পাত্রীরও পাত্র সম্পর্কে বাস্ত অবগতি অর্জন হয়।

৩. কুরআন নারীর ওপর জবরদস্তি নিষিদ্ধ করেছে:

আল্লাহ তাআলা বলেন:
> لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا
অর্থ, “তোমাদের জন্য নারীদেরকে জোরপূর্বক নিজেদের অধিকারে নিয়ে নেওয়া বৈধ নয়।”
—(সূরা আন-নিসা:১৯)

আয়াতটির মূল প্রসঙ্গ জাহেলি যুগের নারীদের প্রতি জবরদস্তি ও অধিকার হরণের একটি প্রথা। কিন্তু এখান থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে ইসলামের বিবাহব্যবস্থায় নারীকে নিজের ইচ্ছা ও অধিকারের বাইরে ঠেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

তাই “পাত্র যা জিজ্ঞেস করবে, পাত্রী শুধু উত্তর দেবে”—এমন একতরফা পদ্ধতি ইসলামের সামগ্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

৪. কুরআন-সুন্নাহ পুরুষ ও নারী—উভয়কেই শালীনতার নির্দেশ দিয়েছে:

আল্লাহ প্রথমে মুমিন পুরুষদের বলেন:
> قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
অর্থ, “মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।”
এরপর মুমিন নারীদেরও দৃষ্টি সংযত রাখা ও সতীত্ব রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
—(সূরা আন-নূর: ৩০–৩১)

অতএব পাত্রীকে দেখার উদ্দেশ্য যদি বিবাহের উপযুক্ততা যাচাই হয়, তবে সেটি শরিয়তের সীমার মধ্যে হতে হবে। একই সঙ্গে পাত্রের ক্ষেত্রেও একই নীতির কথা মনে রাখতে হবে।

৫. পাত্রী যেমন পাত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন, পাত্রও পাত্রী সম্পর্কে জানতে পারবেন:

বিবাহের আগে উভয় পক্ষের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা স্বাভাবিক। যেমন—

পাত্রের ক্ষেত্রে:

দ্বীনদারি ও নামাজের অবস্থা কেমন?
চরিত্র ও আখলাক কেমন?
উপার্জনের উৎস কী?
স্ত্রী সম্পর্কে তার প্রত্যাশা কী?
স্ত্রীর শরিয়তসম্মত অধিকার সম্পর্কে তার ধারণা কী?
পরিবারে নারীদের সঙ্গে আচরণ কেমন?
রাগ হলে কীভাবে আচরণ করেন?
ঋণ বা বড় কোনো আর্থিক দায় আছে কি?
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

পাত্রীর ক্ষেত্রেও:

দ্বীনদারি ও নামাজের অবস্থা কেমন?
চরিত্র ও আখলাক কেমন?
বিবাহিত জীবনের প্রত্যাশা কী?
পরিবার ও সংসার সম্পর্কে তার ধারণা কী?
শিক্ষা, চাকরি বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার পরিকল্পনা কী?
গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় আছে কি যা বিবাহের আগে জানা প্রয়োজন?

এগুলো কোনো পক্ষকে অপমান করার জন্য নয়; বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

৬. রাসূল ﷺ পাত্রের ব্যাপারেও তথ্য গোপন করেননি:

ফাতিমাহ বিনতে কায়স (রা)-কে যখন মু‘আবিয়া ও আবু জাহমসহ কয়েকজন বিবাহের প্রস্তাব দেন, তিনি রাসূল ﷺ-এর কাছে পরামর্শ চান। রাসূল ﷺ তাদের সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য জানান—মু‘আবিয়ার আর্থিক দুরবস্থার কথা এবং আবু জাহমের নারীদের প্রতি কঠোর আচরণের কথা উল্লেখ করেন; এরপর উসামাহ (রা)-কে বিবাহের পরামর্শ দেন।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা:

বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্রের চরিত্র ও বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে পাত্রীকে জানানোও গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ শুধু “পাত্রীর কী কী গুণ আছে?”—এ প্রশ্নই যথেষ্ট নয়; “পাত্র কেমন?”—এ প্রশ্নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. তাহলে বাস্তবে পাত্রীকেই বেশি প্রশ্ন করা হয় কেন?

এটি মূলত অনেক সমাজের সাংস্কৃতিক রীতি, ইসলামের কোনো সর্বজনীন বিধান নয়।

অনেক পরিবারে ধরে নেওয়া হয়—পুরুষই নির্বাচন করবে, নারীকে শুধু যাচাই করা হবে। কিন্তু ইসলামী দৃষ্টিতে বিষয়টি এত একপাক্ষিক নয়। পাত্র-পাত্রী উভয়েরই বিবাহ সম্পর্কে জ্ঞান, পছন্দ-অপছন্দ ও সম্মতির গুরুত্ব রয়েছে।

বরং একজন বুদ্ধিমান পাত্রীরও উচিত পাত্রকে যথাযথ প্রশ্ন করা। কারণ তিনি এমন একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, যার সঙ্গে দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করবেন।

৮. তবে প্রশ্ন করারও ইসলামী আদব রয়েছে:

বিবাহের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা মানে ব্যক্তিগত অপমান, অপ্রয়োজনীয় কৌতূহল বা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করা নয়।

প্রশ্ন হওয়া উচিত—

প্রয়োজনীয়, সত্যনির্ভর, শালীন ও বিবাহ-সংশ্লিষ্ট।

একইভাবে পাত্র বা তার পরিবার এমন প্রশ্ন করবেন না যা কাউকে হেয় করে, অযথা লজ্জায় ফেলে বা তার ব্যক্তিগত মর্যাদা নষ্ট করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
> وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
অর্থ, “তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর।”
—(সূরা আন-নিসা: ১৯)

বিবাহের আগের আচরণেও সম্মান, ভদ্রতা ও ন্যায়পরায়ণতা থাকা উচিত।

তাহলে মূল কথা কী?

পাত্রপাত্রী দেখার বৈঠক কোনো ‘পাত্রীর পরীক্ষা’ নয়; এটি উভয়ের জীবনসঙ্গী নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।

পাত্র যেমন পাত্রীর সম্পর্কে জানবে,
পাত্রীও পাত্রের সম্পর্কে জানবে।

পাত্র যেমন প্রশ্ন করতে পারে,
পাত্রীও প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে পারে।

পাত্র যেমন অপর পক্ষের দ্বীন ও চরিত্র যাচাই করবে,
পাত্রীও পাত্রের দ্বীন, চরিত্র ও দায়িত্ববোধ যাচাই করবে।

রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহতে সম্ভাব্য পাত্রীকে দেখে নেওয়ার নির্দেশ যেমন আছে, তেমনি ফাতিমাহ বিনতে কায়স (রা)-এর ঘটনায় দেখা যায়—নারীর পক্ষ থেকেও পাত্র সম্পর্কে পরামর্শ ও তথ্য গ্রহণের বাস্তব দৃষ্টান্ত রয়েছে।

সুতরাং, “পাত্রীকে কেন এত প্রশ্ন করা হবে, পাত্রকে কেন নয়?”—এর ইসলামী উত্তর হলো: পাত্রকে অবশ্যই প্রশ্ন করা যেতে পারে এবং বিবাহের স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা উভয় পক্ষেরই অধিকার।

বিবাহ যেন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বা একতরফা পছন্দের ওপর নির্ভর না করে; বরং দ্বীন, চরিত্র, সামঞ্জস্য, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সম্মতি ও বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—এটাই অধিক নিরাপদ ও কল্যাণকর পদ্ধতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp